শনিবার, ১৫ মে ২০২১, ১০:২৩ পূর্বাহ্ন১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

২রা শাওয়াল, ১৪৪২ হিজরি

স্বাস্থ্য কেন্দ্র নয় যেনো মাদকের আখড়া !

স্বাস্থ্য কেন্দ্র নয় যেনো মাদকের আখড়া !

রাসেল আহমেদ, রূপগঞ্জঃ অনিরাপদ ভবন, ঔষুধ ও লোকবল সংকটে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কাঞ্চন পৌর স্বাস্থ্য কেন্দ্র। শুধু তাই নয়, দায়িত্বরত কর্মকর্তারা নিয়মিত অফিস না করায় রোগীরা সেবা বঞ্চিত হয়ে হাসপাতাল বিমুখ থাকেন বলে রয়েছে অভিযোগ।

 

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, কাঞ্চন পৌর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রবেশ মুখে প্রধান ফটকটি ভাঙ্গাচোড়া। মাদকসেবীরা খুলে নিয়েছে এর লোহার ফটক। উন্মুক্ত পরিবেশ থাকায় দিন দুপুরে মাদক সেবীরা আড্ডায় মাতেন এখানে। আবার স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সামনে রয়েছে পঁচা পানির নর্দমা। এর দূর্গন্ধে এখানে রোগী ও চিকিৎসকদের ভোগান্তির শেষ নেই। একদিকে বাহিরের এমন বেহাল দশা আবার ভেতরে রয়েছে লোকবল সংকট ও ঔষুধ সংকট। তাই রোগীরা কাঙ্খিত সেবা না পেয়ে এ হাসপাতালে আসা ভুলেই গেছেন। এমন বেহাল চিত্র বর্তমান কাঞ্চন পৌরসভার অধীনে কেন্দুয়া এলাকার কাঞ্চন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পণা কেন্দ্রের ।

 

১৯৯২ ইং সনে কাঞ্চন পৌর এলাকার বাসিন্দা হাজী সেরাজুল মোল্লার দান করা ৩০শতক জমিতে ১৯৯৪ইং সনে নির্মাণ করা হয় এ কেন্দ্রটি। সারাদেশের মতো স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পণা বিভাগের অর্থায়নে কাঞ্চন পৌর এলাকায় ২৪ ঘন্টা প্রসূতি ও গর্ভকালীন সেবায় মা ও শিশুদেরসহ সাধারন রোগী সেবার জন্য এ স্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়।

 

বিগত ২৭ বছর ধরে এখানে দায়িত্ব পালন করে আসছেন একই এলাকার বাসিন্দা এসওসিএমও জহিরুল ইসলাম, ইউনিয়ন ভিত্তিক পরিদর্শক হিসেবে লুৎফর রহমান। এছাড়াও বিধি মোতাবেক এখানে একজন করে এসওসিএমও, ফার্মাসিস্ট,এফডব্লিউভি, আয়া এবং এমএলএসএস থাকার নিয়ম থাকলেও ফার্মাসিস্ট ও এলএমএসএস নিয়োগ নেই শুরু থেকেই। ফলে ওষুধ বিতরণ ও রোগী সহায়তা দিতে হিমসিম খাচ্ছে এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি।

 

এতে কাঞ্চন পৌর এলাকার লক্ষাধিক জনসংখ্যার স্বাস্থ্য সেবা চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয়দের দাবী পৌরসভার অধীনে হলেও এমন বেহাল পরিবেশ নিয়ে মাথা ব্যথা নেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের। অভিযোগ রয়েছে, এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি বিএনপির আমলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় পরবর্তি কেহই নজর দেয়নি। ফলে অবহেলিত অবস্থায় এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি চরম বেহালে পরিণত হয়।

 

কাঞ্চন পৌর মেয়র আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, বেহাল এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানিয়েছি। এটা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ার। তবে পৌরসভার পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সামনের অংশে বালি ভরাট করে এবং সামনের অংশে প্রাচীর দিয়ে নিরাপদ পরিবেশ করে দিতে উদ্যোগ নিয়েছি। যা আগামী অর্থ বছরেই সমাধান হবে।

 

এদিকে ১১ এপ্রিল রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় এই প্রতিবেদন কাঞ্চন পৌর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রবেশ করে দেখতে পান, এখানে দায়িত্বরত এসওসিএমও জহিরুল ইসলাম মিয়া এবং এফডব্লিউভি সুমা রানী ছাড়া কেহই কার্যালয়ে উপস্থিত নেই। খাতা কলমে ইউনিয়ন পরিদর্শক পদে লুৎফর রহমান নামের একজন দায়িত্বে থাকলেও নিয়মিত অফিস করেন না তিনি। তবে মুঠোফোনে তিনি জানান, অফিসের কাজেই বাইরে থাকেন তিনি।

 

স্থানীয় বাসিন্দা হামিদুল্লাহ বলেন,এমন নানা কারনে রোগীরা ও আসেননি সেবা নিতে। এ হাসপাতালে এলেই বলে ডাক্তার নেই, আবার ঔষুধ নেই। যা চাই তাই নাই বলে । তাই এখানে কেউ চিকিৎসা নিতে আসেন না। কেন্দুয়ার বাসিন্দা সোহেল মিয়া বলেন, স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আগে ২৪ ঘন্টাই সেবা দিতো। এখন বেহাল দশা ও ঔষুধ না পেয়ে কেউ আর এখানে আসে না। সবাই বাধ্য হয়ে বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে চলে যায়।

 

প্রায় রোগী শুন্য এ হাসপাতালের বেহাল দশা বিষয়ে জানতে চাইলে দায়িত্বরত এসওসিএমও জহিরুল ইসলাম মিয়া বলেন, রোগীরা সেবা নিতে আসেন। তবে তাদের মনমতো ঔষুধ দিতে না পারায় ক্ষোভ জানিয়ে চলে যান। শুরু থেকেই ফার্মাসিস্ট পদ শুন্য এখানে। তাই সব কাজ আমাকেই করতে হয়। এসব কারনে প্রকৃত সেবা না পেয়ে পরে আর রোগীরা আসতে চায় না। তিনি আরো বলেন উপজেলা থেকে যে পরিমাণ ঔষুধ দেয় তা পর্যাপ্ত নয়। তবে মাসে ৪ শতাধিক রোগী এখানে সেবা নেয়।

 

রূপগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার লুৎফুন্নাহার বেগম বলেন, কাঞ্চন পৌর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সমস্যাগুলো জেনেছি। উর্ধ্বতন মহলকে জানিয়ে এসব সংকটের সমাধানে কাজ করবো।

 

শেয়ার করুন
  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





themesba-zoom1715152249
© Daily Jago কর্তৃক সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত।
Developed By: Nagorik IT