রবিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২১, ০৯:২০ পূর্বাহ্ন১০ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

১০ই জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

রূপগঞ্জ-ডেমরাঃ মেয়দোত্তীর্ণ প্যাকেটজাত গরুর মাংসের নামে কি খাচ্ছেন হোটেল-রেস্তোরায় ?

রূপগঞ্জ-ডেমরাঃ মেয়দোত্তীর্ণ প্যাকেটজাত গরুর মাংসের নামে কি খাচ্ছেন হোটেল-রেস্তোরায় ?

রাসেল আহমেদ : আপনি কি জানেন হোটেল-রেস্তোরায় গরুর মাংসের নামে কি খাচ্ছেন? একবার কি খোঁজ নিয়ে দেখেছেন এ মাংস আসলে কোথা থেকে আসছে? দীর্ঘদিন কোল্ড স্টোরেজে রাখা এ মাংসে সংক্রমণ আছে কি-না? কিংবা বাজারে কসাইয়ের দোকান থেকে যে মাংস কিনছেন আসলেই সেটা প্যাকেটজাত মিশ্রিত মাংস কি-না? এমনওতো হতে পারে গরুর মাংস মনে করে যা খাচ্ছেন সেটা আসলে গরুর মাংস-ই না। এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী লোকজনের সরলতার সুযোগ নিয়ে ভারতের মেয়দোত্তীর্ণ প্যাকেটজাত গরুর মাংস রূপগঞ্জ, ডেমরা, যাত্রাবাড়ি, সোনারগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকার হোটেল-রেস্তোরা ও কসাই দোকানগুলোতে পাইকারি বিক্রি করছে।

প্রতিদিন প্রায় ৩০/৪০ মণ মাংস বিক্রি করা হয় বলে জানা গেছে। রাজধানী ঢাকায় ইতিপূর্বে দু’য়েকটি কোল্ড স্টোরেজে অভিযান পরিচালনা করা হলেও বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে। এদিকে এসব মেয়দোত্তীর্ণ গরুর মাংস খেয়ে নানা সংক্রমণে ভোগার আশঙ্কা করছেন লোকজন। প্যাকেটজাত এসব গুরুর মাংস আসলেই গরুর মাংস কি-না তা-নিয়ে খোদ স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সন্দিহান। এসব মেয়দোত্তীর্ণ প্যাকেজাত মাংস বিক্রিতে নেই বিএসটিআইয়ের অনুমোদন। প্যাকেটের গায়ে নেই গুণগত মানের নমুনা বা সিল।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও রাজধানী ঢাকার ডেমরা, যাত্রাবাড়িসহ নিন্মাঞ্চলে মেয়দোত্তীর্ণ প্যাকেটজাত গরুর মাংস দেদার বিক্রি হচ্ছে। এসব প্যাকেটজাত মাংস ধীর্ঘদিনের। দেশের বাহির থেকে আসা এসব মাংস কোল্ড স্টোরেজে রাখা হয়। পরে সেগুলো রাজধানী ঢাকার নিন্মাঞ্চল ও রূপগঞ্জের বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরায় বিক্রি করা হয়। ক্ষেত্রভেদে অনেক স্থানে কসাইদের কাছেও বিক্রি করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকার ডেমরা, যাত্রবাড়ি, নন্দিপাড়া, মাদারটেক, নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ, সিদ্ধিরগঞ্জ, সোনারগাঁও, আড়াইহাজার উপজেলায় এসব মাংস বিক্রির সিন্ডিকেট চক্র গড়ে উঠেছে। অন্তত ৫ টি চক্র এ ব্যবসা দেদার চালিয়ে যাচ্ছে। এরা ২’শ টাকা কেজি দামে এসব প্যাকেটজাত মাংস কিনে হোটেল-রেস্তোরাগুলোতে ৪’শ টাকা কেজি দামে বিক্রি করছে। প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মণ মাংস হোটেল-রেস্তোরাগুলোতে বিক্রি হয় বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বিক্রেতা জানান।

জানা গেছে, কোল্ড স্টোরেজ বা গুদাম থেকে গভীর রাতে বের করে ভোর রাতের মধ্যেই তা সদ্য জবাইকৃত গরুর মাংসের সঙ্গে মিশিয়ে বিক্রি হচ্ছে। আবার কর্মচারীর মাধ্যমে বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এসব প্যাকেটজাত মাংস বিক্রির অনুমোদন নেই বিএসটিআইয়ের। নেই গুনগত মান সংক্রান্ত কোনো সিল বা নমুনা। প্যাকেটজাত মাংস বাজারজাত করেন কথা হয় এমন একজন কর্মচারীর সঙ্গে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঐ কর্মচারী বলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব প্যাকেটজাত মাংস সরবরাহ হচ্ছে ষ্টাফ কোয়ার্টার, চিটাগাংরোড, নন্দিপাড়া, তারাব, ভুলতা, গোলাকান্দাইল, যাত্রবাড়ি, কাঁচপুরসহ বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ, তেহারি বা বিরিয়ানি হাউস ও চাইনিজ হোটেল। পাশাপাশি কৌশলে কিছুটা বিক্রি করা হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের কাছেও।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, হিমায়িত মাংসে ও প্যাকেটের গায়ে কালচে জমাটবাঁধা রক্ত। লাল ও হলুদ রঙের ওই কার্টনগুলোর গায়ে ইংরেজিতে বড় করে লেখা ছিল “সামির”। তার নিচে লেখা ছিল ‘ফ্রজেন বনলেস বাফেলো মিট’ অর্থাৎ হিমায়িত হাড়মুক্ত মহিষের মাংস। আরেক পাশে লেখা ‘আল্লানা”। ওজন ২০ কেজি। আরেকটিতে সাদা কাগজের ওপর প্রিন্ট করা কিউআর কোড, রফতানি তথ্য ও মেয়াদ। ২০২০ সাল পর্যন্ত এসব কার্টনে মেয়াদ উল্লেখ থাকলেও, আদৌ তা সঠিক কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে লেখা ছিল “আল সামির এক্সপোর্ট প্রাইভেট লিমিটেড ইন্ডিয়া। তবে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের নাম কার্টন বা প্যাকেটের গায়ে উল্লেখ দেখা যায়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশি ট্রেডার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠান এগুলো আমদানি করেছে। এরকম আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান হিমায়িত মাংস আমদানি করছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁত বাজারের মাংসের দোকানের একজন কর্মী বলেন, এই প্যাকেটের মধ্যে আদৌ মহিষের মাংস কিনা আমরা নিজেরাও সন্দিহান। এর মধ্যে মহিষের মাংস না ঘোড়ার মাংস আমরা সেটি জানি না। তার মধ্যে কী ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়েছে তা তো বোঝার উপায় নাই। রূপগঞ্জ উপজেলা স্যানেটারি ইন্সপেক্টর মনিরুল ইসলাম বলেন, এসব বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। কিন্তু হোটেল-রেস্তোরার মালিকরা অস্বীকার করছে। তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, মেেেদাত্তীর্ণ যে কোন খাবার ক্ষতিকর। রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগম মম বলেন, আমার জানা ছিলনো। দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি।

শেয়ার করুন
  • 137
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





themesba-zoom1715152249
© Daily Jago কর্তৃক সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত।
Developed By: Nagorik IT