রবিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২১, ০৭:৪৮ পূর্বাহ্ন১০ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

১০ই জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

মেজরটিলায় সড়কের উভয় পাশে ময়লার ভাগাড়, নাক চেপে চলাচল

মেজরটিলায় সড়কের উভয় পাশে ময়লার ভাগাড়, নাক চেপে চলাচল

মেজরটিলায় সড়কের উভয় পাশে ময়লার ভাগাড়, নাক চেপে চলাচল

ডেস্ক নিউজ: সিলেট নগরীর পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন খাদিমপাড়া। সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের দু’দিকের এলাকা নিয়ে এই ইউনিয়নের অবস্থান। সড়কের দুই পাশে রয়েছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। অথচ এই এলাকায় উৎপাদিত প্রতিদিনকার শত শত টন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কোন উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের। রাস্তার পাশে ফেলা বর্জ্যরে গন্ধে পর্যটকসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও পথচারীদের চলাচল করতে হয় নাক চেপে ধরে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সিলেট নগরীর শেষ প্রান্ত সিলেট এমসি কলেজ। পার্শ্ববর্তী সিলেট সরকারি কলেজ থেকে শুরু সিলেট সদর উপজেলার খাদিমনগর ইউনিয়নের। সরকারি কলেজের ছাত্রাবাস ঘেঁষা শ্যামলী আবাসিক এলাকার ১নং রোডের সামনে বর্জ্য ফেলা হয়। এর বিপরীতে বাংলাদেশ বেতারের স্টাফ কোয়ার্টারের সামনে সিলেট তামাবিল সড়কের পাশে ফেলা হচ্ছে বর্জ্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্জ্যগুলো প্রতিদিন সকালে স্থানীয় সুইপাররা ফেলে যায়। বেতারের কর্মকর্তাদের বাঁধার মুখে কিছু দিন বর্জ্য ফেলা বন্ধ হলেও পুনরায় শুরু হয়েছে। মেজরটিলা ইসলামপুর বাজারের প্রতিদিন উৎপাদিত বর্জ্য রাস্তার পাশে ফেলা হয়ে থাকে বলে স্থানীয়রা জানান ।

দেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের দেয়াল ঘেঁষেও বর্জ্যরে স্তুূপ লক্ষ্য করা যায়। আল আমিন জামেয়ার পাশে প্যারাগন প্রপার্টিজের বিপরীতেও দীর্ঘ এলাকা জুড়ে রয়েছে বর্জ্যরে স্তূপ। প্রতিদিন স্থানীয় বাসিন্দারা লোক দিয়ে এসব স্থানে বর্জ্য ফেলে রেখে যায় বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।

চামেলীবাগ আবাসিক এলাকার ১ ও ৩ নং রোডের বিপরীতেও রয়েছে ময়লার স্তুপ। এখানে লিখে রাখা হয়েছে-‘বর্জ্য ফেলা নিষেধ’। কিন্তু, কে শোনে কার কথা। বিশেষ করে ইসলামপুর বাজার সংলগ্ন এলাকার লোকজন বর্জ্য ফেলার নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায়, যে যেখানে পারছেন ময়লা ফেলে রাখছেন। বাজার পরিষ্কার করে প্রতিদিন সকালে পরিচ্ছন্ন কর্মীরা ভ্যান গাড়ি দিয়ে বর্জ্য ফেলে যায়। এতে সড়ক দিয়ে পথচারীদের চলাচল কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্পটে যেতে হয় সিলেট তামাবিল সড়কে দিয়ে। ওই সড়কের দু’পাশে ফেলা হয় ময়লা আবর্জনা। জাফলং-পাংথুমাই, লালাখাল, লোভাছড়া, নাজিমগড়, এক্সেলসিয়র, খাদিমনগর জাতীয় উদ্যানসহ গুরুত্বপূর্ণ সব প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন শত শত পর্যটক ছুটে যান। সরকারি কলেজ থেকে প্রায় শাহপরান এলাকা পর্যন্ত যেতে অনেক সময় বাতাসে দুর্গন্ধ ভেসে আসে যাত্রীদের নাকে।

পথচারী হলে তো আর কথা নেই, নাক বন্ধ করে চোখ বুজে দ্রুত ছুটে যেতে হয় গন্তব্যে।
পূরবী ও সৈয়দপুর আবাসিক এলাকাও ওই এলাকার গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। এই দুই এলাকায়ও একই সমস্যা বিরাজমান। ময়লা আবর্জনা ফেলার নির্ধারিত স্থান না থাকায় চরম কষ্ট করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। অনেকেই নিজস্ব উদ্যোগে যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলে দিতে বাধ্য হন।

সিলেট সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী পারভেজ আহমদ জানান, সরকারি কলেজে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন। তাদের বেশীরভাগ মেজরটিলা, শ্যামলী আবাসিক এলাকা, চামেলীবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করেন। সাধারণ বাসিন্দার বাইরেও বিশাল এ ছাত্রসমাজকে প্রতিদিন দুর্গন্ধ মাড়িয়ে কলেজে আসতে হয়। অনেক সময় বাতাসে গন্ধ কলেজের ক্লাস রুম পর্যন্ত নিয়ে যায় বলে জানান তিনি।

সিলেট সরকারি কলেজ মসজিদের ইমাম মাওলানা এহসান উদ্দিন জানান, প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়াতে তাকে মসজিদে যেতে হয়। বার বারই নাক বন্ধ করে তাকে পথ চলতে হয়। তিনি বলেন, নগরীর একেবারেই পাশের এই এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আরো গুরুত্ব দেয়া দরকার।

ইসলামপুর এলাকার বাসিন্দা সাঈদ আহমদ বলেন, ময়লা ফেলার জায়গা নির্দিষ্ট করে না দিলে কোথায় ফেলব? আবার এগুলো রাখব কোথায়? ফলে বাধ্য হয়েই বাসার কাজের মানুষ দিয়ে কোন রকমে রাস্তার পাশে ফেলার ব্যবস্থা করেন বাসিন্দারা।

মেজরটিলা ইসলামপুর এলাকার ব্যবসায়ী রফিক মিয়া জানান, তাদের বাজার পরিষ্কারের জন্য নিয়মিত পরিচ্ছন্ন কর্মীদের টাকা প্রদান করা হয়। ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় রাস্তার পাশে ফেলে আসে তারা। এতে সকলেরই অসুবিধে হচ্ছে।

খাদিমপাড়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মতিউর রহমান রিপন বলেন, দুই ওয়ার্ডের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে ময়লা আবর্জনা ব্যবস্থাপনা বিষয়ে আলাপ আলোচনা চলছে। নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় লোকজন সড়কের পাশে বর্জ্য ফেলে যাচ্ছে। এ বিষয়টি নিয়ে সবাই উদ্বিগ্ন। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টি প্রধান সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে।

খাদিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট আফছর আহমদ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষমতা কতটুকু তা সবার জানা। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোন বরাদ্দ বা জনবল কিংবা নির্ধারিত স্থান ইউনিয়ন পরিষদের নেই। চেয়ারম্যান বলেন, সিটি কর্পোরেশনের ২০ নং ওয়ার্ড খাদিমপাড়া ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী এলাকা। এই ওয়ার্ডে এমসি কলেজের পাশে বর্জ্য ফেলার নির্দিষ্ট স্থান রয়েছে, আমরা সেই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের সাথে আলাপ আলোচনা করে ময়লা আবর্জনা সেখানে এনে ফেলার উদ্যোগ নেয়া যায় কিনা তা নিয়ে ভাবছি। এ বিষয়ে বেশ অগ্রগতি হয়েছে বলেও জানান এডভোকেট আফছর আহমদ। সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ আন্তরিক হলে এ সমস্যা দূরীকরণ সহজ হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সূত্র্র: সিলেটের ডাক

শেয়ার করুন
  • 118
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





themesba-zoom1715152249
© Daily Jago কর্তৃক সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত।
Developed By: Nagorik IT