সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ১০:২৭ অপরাহ্ন২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

২৯শে শাবান, ১৪৪২ হিজরি

মৃত্যুবার্ষিকীতে গরীবের ডাক্তার খ্যাত বাবাকে নিয়ে সাংবাদিক সাদেকুর রহমানের আবেগঘন স্ট্যাটাস

মৃত্যুবার্ষিকীতে গরীবের ডাক্তার খ্যাত বাবাকে নিয়ে সাংবাদিক সাদেকুর রহমানের আবেগঘন স্ট্যাটাস

জাগো ডেস্কঃ ডা. এম এ ওয়াহেদ সরকার। নামটির সঙ্গে হয়তো অনেকেই পরিচিত। মানুষের সেবায় ব্রত হয়ে জীবনের পুরোটা সময় পার করেছেন। নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর তথা সোনারগাঁওবাসীর কাছে পরিচিত ছিলো ‘গরীবের ডাক্তা ‘ বলে। বিনয়ী স্বভাবের ডা. এম এ ওয়াহেদ অনেকটা যেচে পড়ে রোগীদের পাশে দাঁড়াতেন। অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী গরীবের ডাক্তার খ্যাত এ মানুষটি ন্যায়-নীতিতে ছিলেন অটল।

নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর শিল্পাঞ্চলে ‘রোগীবন্ধু’খ্যাত ডা. এম এ ওয়াহেদ সরকারের ১১৩ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ  বৃহস্পতিবার । বিশেষ করে দুস্থ-গরীব মানুষের চিকিৎসায় তার সেবামূলক দৃষ্টিভঙ্গী আজো স্থানীয়ভাবে গল্প হয়ে ফেরে। তিনি ২০০৯ সালের ১৬ এপ্রিল সাতষট্টি বছর বয়সে ইন্তিকাল করেন।  ডা,এম এ ওয়াহেদ ১৯৪২ সালের ১৮ মার্চ কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলাধীন হিরাপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করেন।

এদিকে বাবার মৃত্যুবার্ষিকীতে ফেসবুকে  আবেগঘন   স্ট্যাটাস দিয়েছেন ডা,এম এ ওয়াহেদ’র পুত্র সিনিয়র সাংবাদিক, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সিনিয়র সদস্য,  ‘মাইগ্রেশন নিউজ বিডি.কম’ এর ডেপুটি এডিটর  সাদেকুর রহমান।

নিচে ফেসবুক স্ট্যাটাস হুবহু তুলে ধরা হলো

সাংবাদিক সাদেকুর রহমান

আব্বাকে ১১টি বছর ধরে দেখি না! ফোনে কথা হয় না……………………….. !!
========================================
আমার জীবনের সবচেয়ে বিয়োগান্তক দিন আজ! আমার পরম শ্রদ্ধেয় আব্বা ডা. এম এ ওয়াহেদ সরকার ২০০৯ সালের ১৬ এপ্রিল আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে এ দুনিয়া ছেড়ে চলে যান। আব্বা আপনাকে ১১টি বছর ধরে দেখি না। প্রতিদিন সকাল, দুপুর, রাতে অন্তত তিনবার ফোনে কথা হতো, ১১টি বছর ধরে সে কন্ঠ আর শুনতে পাই না। ১১টি বছরে আপনাকে ছাড়া কুড়িটি ঈদ করতে হয়েছে। আপনার জন্য আমি ফতোয়া কিনি না ১১টি বছর ধরে। আপনার মতো এমন বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ দেখি না ১১টি বছর ধরে। স্বল্পভাষী, মিতভাষী, মিষ্টভাষী, সদালাপী, সত্যনিষ্ঠ, সময়নিষ্ঠ ছিলেন আপনি। যা আমি ১১টি বছর ধরে খুবই মিস করি আব্বা! মেহমানদারি করা আপনার শখের মতো ছিল। সাড়ে ৩৭ বছরের পেশাগতজীবনে কত অসহায়-দরিদ্র মানুষকে বিনা পয়সায় চিকিৎসা দিয়েছেন, কত নিরন্ন মানুষের মুখে আহার তুলে দিয়েছেন, কত বস্ত্রহীন মানুষকে পরিচ্ছদ দিয়েছেন! জানেন আব্বা, সবাই আপনার জন্য প্রাণ খুলে দোয়া করে! আমরা সন্তান হিসেবে আপনার পরকালীন কল্যাণের জন্য সম্ভব সব কিছুই করার চেষ্টা করি। আপনি বাংলা ও আরবী উভয় মাধ্যমে কৃতিত্বের সাথে পড়াশোনা করেছেন। আপনার সান্নিধ্য পাওয়া অসংখ্য মানুষ আপনার বৃদ্ধিবৃত্তিক উত্তরাধিকার হয়ে আছে! আপনার মৃত্যুদিনটি স্মরণে তারাও কিছু আনুষ্ঠানিকতা করতো। আব্বা, আপনি আপাদমস্তক একজন বাস্তবভিত্তিক, সামাজিক ও পরোপকারী মানুষ ছিলেন। আপনার আদর্শ মেনেই চলমান করোনা পরিস্থিতিতে এবার কোন আনুষ্ঠানিকতা নেই। সব কিছু স্বাভাবিক হলে যথারীতি প্রতিটি অনুষ্ঠান করা হবে ইনশাআল্লাহ। আব্বা, আপনি আমার প্রেরণা ও বাতিঘর! আপনি আমাকে মানবিকতার যে মহান শিক্ষা দিয়ে গেছেন, সেটাই লালন করে চলেছি। আব্বা, আপনি একজন সাচ্চা ধর্মপ্রাণ মুসলমান ছিলেন। আপনি হাক্কানী আলেমদের শ্রদ্ধা-সম্মান করতেন, পক্ষান্তরে ধর্মব্যবসায়ী, ভন্ড-পীরদের ঘৃণা করতেন। আমিও তাই করি! আপনি সরল পথের পথিক ছিলেন, আপনার সন্তান হিসেবে আমিও সে পথে চলার অন্তপ্রাণ যাত্রী! আব্বা, আপনার উদারতা, মহানুভবতা, ক্ষমাশীলতার বিপরীতে কঠোরতার বিশিষ্টতা আপনাকে অনন্য ঐশ্বর্য দান করেছে। আব্বা আপনি এখন এমন এক জগতের বাসিন্দা যেখানে নিজে আমল করতে পারেন না। শুধু সদকায়ে জারিয়া আর আমাদের নেক আমলগুলো আপনার খাতায় যোগ হচ্ছে। মহান আল্লাহ তায়ালা আপনাকে আপনার সকল সৎ কাজ ও নেক আমল কবুল করে নিয়ে সর্বোচ্চ জান্নাত নসীব করুন।আমীন। 

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





themesba-zoom1715152249
© Daily Jago কর্তৃক সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত।
Developed By: Nagorik IT