বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ০২:০৪ পূর্বাহ্ন১লা বৈশাখ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

১লা রমজান, ১৪৪২ হিজরি

ব্যাংক খাত সঙ্কটে

ব্যাংক খাত সঙ্কটে

রুনা লায়লাঃ , খেলাপি ঋণ, তারল্য সংকট, মুনাফা কমে যাওয়াসহ নানা ধরনের সংকটে পড়েছে দেশের ব্যাংকখাত। এমন কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও আগামী অর্থবছরের বাজেটের বিশাল অঙ্কের ঘাটতি পূরণে ৮৫ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এর আগেই মানুষের জীবন ও জীবিকা বাঁচাতে এক লাখ কোটি টাকারও বেশি প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ব্যাংক খাতকে।

ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনা ভাইরাসে সৃষ্ট বৈশ্বিক মহামারিতে দেশের আমদানি-রপ্তানি কমে গেছে। তাছাড়া সরকার ব্যাংকগুলোতে সুদের হার ৯ শতাংশে নির্ধারণ করেছে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে। আমদানি-রপ্তানি হ্রাস ও সুদহার কমায় ব্যাংকগুলোর আয়ও কমে যাচ্ছে। এদিকে ব্যবসায়ীদের করোনাকালের ক্ষতি কমানোর জন্য ব্যাংকগুলোকে দুই মাসের সুদ আয় স্থগিত করতে বলা হয়েছে। এবিবি’র হিসাব অনুযায়ী, দুই মাসের সুদ স্থগিত থাকলে ব্যাংক খাতের প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা আয় কমে যাবে।

একইসঙ্গে ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করলেও সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রাহকদের খেলাপি না করার নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে সরকার আগের চেয়ে ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নিচ্ছে। ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা এক দফা বাড়ানো হয়েছিল। করোনা পরিস্থিতিতে সেই লক্ষ্যও ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়া, ব্যাংকে এখন নতুন আমানত একবারেই জমা হচ্ছে না। এতে তারল্য সংকটের আশঙ্কা থাকলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি ছাড়ে তা কিছুটা কমেছে। সব মিলিয়ে বিশাল বোঝার চাপ সৃষ্টি হয়েছে ব্যাংক খাতের ওপর। ভার বহন করার সক্ষমতা ব্যাংকগুলোর আদৌ আছে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনীতিবিদরা।

এদিকে ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার কারণে ব্যাংকগুলোর আমানত বাড়ছে না। খুব শিগগিরই বাড়বেও না। বরং আমানত তুলে নেয়ার প্রবণতা বাড়ছে। ১ এপ্রিল থেকে ঋণে ৯ শতাংশ সুদহার কার্যকর করায় আয় আগের তুলনায় কমে গেছে। আবার করোনার কারণে ঋণের টাকা আদায় হচ্ছে না। সব মিলিয়ে টাকার সংকটে পড়ছে ব্যাংকগুলো।

তাছাড়া করোনার কারণে ঋণ খেলাপিদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার অবস্থা এখন নেই। ফলে নতুন করে কোনো ঋণ আদায়ও হবে না। এতে করে ব্যাংকের আয়ে আরও এক ধাপ প্রভাব পড়বে। এ ছাড়াও ব্যাংকের ডিপোজিট অনেক দিন ধরেই কমছে, এটা আরও কমে যাবে। এখন কেউ ব্যাংকে টাকা রাখতে যাচ্ছে না; বরং যাচ্ছে টাকা ওঠাতে। সব মিলিয়ে ব্যাংকিং খাত অদূর ভবিষ্যতেই এক ধরনের তারল্য সংকটে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

 

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





themesba-zoom1715152249
© Daily Jago কর্তৃক সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত।
Developed By: Nagorik IT