সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ০৭:১৭ অপরাহ্ন২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

২৯শে শাবান, ১৪৪২ হিজরি

নারী জাগরণের অগ্রদূত সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন

নারী জাগরণের অগ্রদূত সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন

রাসেল আহমেদঃ সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন। নরসিংদী জেলার জেলা প্রশাসক। একজন সফল নারী। যেমন কাজে। তেমনি আচার-আচরণে। নীতি-নৈতিকতায় তার জুড়ি মেলা ভার। অন্যায়ের সঙ্গে আপোষহীন এ নারী জেলা প্রশাসক নারী জাগরণের অগ্রদূত। যেখানেই তিনি ছিলেন সেখানেই নিজের সেরাটা দিয়ে বিলিয়ে দিয়েছেন। চলে যাওয়ার পর সেখানে কান্নার রোল পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ পেয়েছেন জাতীয় পুরষ্কার। বিনয়ী ও সততার কারণে কমস্থলের জনসাধারণের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। সৈয়দা ফারহানা কাউনাইনের মতে, ভালবাসার বিকল্প নেই। মানুষকে ভালবাসতে পারলেই সারা জীবন বেঁচে থাকা যায়।

 বিশ্বব্যাপী নারী আন্দোলন বিগত প্রায় একশো বছরেরও অধিক সময়ে উল্লেখন ব্যাপকতা লাভ করলেও বিশ্বের নারীসমাজের মতো বাংলাদেশের নারীরা আজও কোননা কোনভাবে পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রসহ বিভিন্ন বৈষম্যের শিকার থেকে বঞ্চিত নয়। তবে শত প্রতিকূলতার মাঝেও অতি-সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নারীদের অভূতপূর্ব সাফল্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এরই একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্তমূলক উদাহরণ হচ্ছে একটি বৃহতম শিল্পনগরী খ্যাত জেলার সর্বোচ্চ কর্তাব্যক্তি হিসেবে নারীর দায়িত্ব পালন। অত্যন্ত সুনামের সাথে নরসিংদী জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন রিতা।

বলা বাহুল্য যে, জেলা পর্যায়ে ডিসি কেন্দ্রিয় সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন। ডিসি হিসেবে জেলার সাধারণ প্রশাসনিক কার্যক্রম, জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ভূমি ব্যবস্থাপনাসহ অন্যান্য বিষয়গুলো অত্যন্তগামিক বিচক্ষণতার সহিত দেখে থাকেন। নরসিংদী জেলার প্রথম নারী জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন রিতা, পাশাপাশি তিনি নরসিংদী জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবেও অত্যন্তগামিক সফলতা ও দক্ষতার সহিত দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০১ সালে হবিগঞ্জ জেলায় সহকারী কমিশনার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এই প্রতিভাবান নারী।পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী অফিসার, ঢাকা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন কালেই নরসিংদীর ডিসি হিসেবে নিয়োগ পান সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন রিতা।নরসিংদীর ডিসি হিসেবে বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য “কর্মসংস্থান নরসিংদী’’ নামে প্রকল্পের মাধ্যমে ৩১৯ জন বেকার যুবকের কর্মসংস্থান করেছেন তিনি। ২০১৮ সালে ঢাকা বিভাগের শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসক নির্বাচিত হয়ে ‘জাতীয় শিক্ষা পদক ২০১৮’ -এ ভূষিত হন। এছাড়া ২০১৩ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগ ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের ২০১১-২০১২ অর্থ বছরের কর্মকান্ড মূল্যায়নের প্রেক্ষিতে দেশের সেরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন রিতা বলেন, ‘আমার ধ্যান-জ্ঞান প্রজ্ঞা শুধু জেলার উন্নয়ন আর মানুষের সেবা করা। এখন পর্যন্ত নরসিংদীর সব শ্রেণি-পেশার মানুষ আমাকে সহযোগিতা করছেন।

তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কুট্রাপাড়া গ্রামের গর্বিত সন্তান। সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন রিতার বাবা মরহুম অ্যাডভোকেট সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও জাতীয় আদর্শিক রাজনীতিজ্ঞ। ১৯৭০-এর নির্বাচনে তিনি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে জাতীয় নির্বাচনে এমপি হিসেবে বিজয়ী মুকুট অর্জন করেছিলেন। তার স্বামী মো. সায়েদুর রহমান অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে কর্মরত আছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই)।

 

শেয়ার করুন
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





themesba-zoom1715152249
© Daily Jago কর্তৃক সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত।
Developed By: Nagorik IT