রবিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২১, ০৬:০৩ অপরাহ্ন১০ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

১০ই জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

দলদলী বাগানে প্রকাশ্যে চলছে ‘তীর’ জুয়া, ধ্বংসের দিকে যুব সমাজ

দলদলী বাগানে প্রকাশ্যে চলছে ‘তীর’ জুয়া, ধ্বংসের দিকে যুব সমাজ

ডেস্ক নিউজ: সিলেটের শাহী ঈদগাহস্থ টিবি গেইটে দলদলী চা বাগান চলছে ‘তীর খেলা’ নামের এক ধরনের জুয়া। দিন দিন যুব সমাজকে ভর করছে এই তীর খেলা নামক জুয়া। বেড়ে চলেছে এর বিস্তৃতি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, দলদলী চা বাগানে, অবাধে চলছে এই ‘তির খেলা’ নামক জুয়া। দিন দিন যুব সমাজকে আকৃষ্ট করছে এই জুয়া। অনেকে তির খেলে ঘরবাড়ি হারিয়ে পথে বসেছেন। তীর খেলার প্রতিনিধিরা নানা কৌশলে লোভ দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে জুড়ার দিকে ধাবিত করছে।

এতে অনেকে কর্মবিমুখ হয়ে পড়েছে। এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মতো ঘটনাও ঘটছে। দৃষ্টি নন্দন চা বাগান ও রাবার বাগান থাকায় এখানে অনেক মানুষ বেড়াতে আসেন। অনেক সময় তারাও এসব এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মতো ঘটনার শিকার হন। এলাকাবাসীর ধারনা তির খেলার কারণে অনেকে পথে বসায় এসব ছিনতাই করে থাকে।

এই অবৈধ তীর খেলা বন্ধ করতে পুলিশ বার বার অভিযান চালালেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না এলাকাবাসী। সিলেট মহানগরিতে পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে কিছুটা দমন করা গেলেও আবার সেই পুরনো রূপে ফিরে দলদলী চা বাগানের তীরের বোর্ড।

জানা যায়, এ ‘তীর খেলা’য় বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নিচ্ছে। সিলেটের যেকোন এলাকায় বসেই স্মার্টফোনে ইন্টারনেটের ব্যবহারের মাধ্যমে তারা শিলং জুয়ায় বাজি ধরছে। বাদ যাচ্ছে না এখানকার সিএনজি অটোরিক্সা শ্রমিকরাও। সারাদিন সিএনজি চালিয়ে সন্ধ্যা দিকের হাত বাড়ায় তীর নামক জুয়ায়। অনেক সময় সর্বস্ব হারিয়ে বাসায় খালি হাতে ফেরেন তারা।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন সিলেট ভ্যালীর কার্যকরী পরিষদের সভাপতি রাজু গোয়ালা জানান, দলদলী চা বাগানে মারাত্মক আকারে ধারণ করেছে তীর খেলা। আমি ২২টি বাগানের দায়িত্ব থাকলেও আমার একার পক্ষে সবগুলো বাগান কন্ট্রোল করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক সময় অভিযান চালালেও কিছুদিন বন্ধ থাকার পর আবারো সক্রিয় হয় তীরের বোর্ডের কর্ণধাররা। তিনি জানান, আমি জুয়া ও মদের ব্যাপারে গণসচেনতা সহ বিভিন্ন অভিযান চালিয়েছি। স্থানীয় ও প্রশাসনের সহযোগিতা পেলে চিরতরে তীর নামক জুয়া সরানো সম্ভব।

এলাকাবাসীরা জানান, এখানে তীর নামক এই জুয়ার কারনে অসামাজিক কার্যকলাপ হয়ে থাকে এখানে। মদ, গাঁজা সহ ইত্যাদি অবৈধ কার্যকলা হয়ে থাকে এখানে। বাদ যাচ্ছে স্কুল পড়–য়া শিক্ষার্থীরা। অনেক স্কুলগামী ছাত্ররা স্কুল ফাঁকি দিয়ে এ খেলায় অংশ নিচ্ছে এতে করে ছাত্রদের মনোযোগ বইয়ের পরিবর্তে তীর খেলার দিকেই বেশী ঝুঁকছে। আর ভারতীয় এ ভাগ্যের খেলায় স্কুল কলেজের ছাত্র, শিক্ষক, দিনমজুর, রিকশাচালক, যানবাহনের চালক-শ্রমিকসহ বেকার যুবকরা অংশ নিচ্ছে।

সিলবিডি নিউজের অনুসন্ধানে জানা গেছে, এ বাগানে প্রায় ৯টি বোর্ড বসে। প্রতিদিন হাজার হাজার টাকার লেনদেন হয় এই তীরের বোর্ডে। দলদলি চা বাগানের এসব জুয়ার নেতৃত্বে রয়েছেন প্রভাবশালী দলের নেতাকর্মীরা ও প্রশাসনের একাধিক ব্যাক্তি। তাছাড়াও থানার অসাধু কর্মকর্তাদের মাসোহারা দিয়ে চলছে এ খেলা। সর্বনিম্ন ১০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত বাজি ধরা যায়। যত মূল্যে সংখ্যাটি বিক্রয় হবে তার ৭০ গুণ লাভ দেয়া হবে বিজয়ী নম্বরকে।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যক্তি জানান- রেস্তোরাঁয় বসে নিরাপদে খেলার নাম্বার টুকন বিক্রয় করছেন তীর বোর্ডের প্রতিনিধিরা। তারা জানান, রাজিব দাস, মনো দাস মিন্টু, হিরা লাল, সুমন দাস, সবুজ দাসের মাধ্যমেও প্রতিদিন অবৈধ ভাবে তীরের বোর্ড পরিচালনা হয়ে থাকে। তারা নির্দিধায় এসব বোর্ড পরিচালনা করে যাচ্ছেন।

এলাকাবাসী ও স্থানীয়রা মনে করেন এভাবে চলতে থাকলে একদিন যুব সমাজ পুরোটা ধ্বংসের দিকে ধাবিত হয়ে পড়বে। বাগানটিকে বাঁচাতে ও জুয়া মুক্ত করে শান্তি ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহলের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





themesba-zoom1715152249
© Daily Jago কর্তৃক সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত।
Developed By: Nagorik IT