সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ০৬:২৯ অপরাহ্ন২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

২৯শে শাবান, ১৪৪২ হিজরি

ছাতকে জুনিয়ার হাওর পল্লি লিজ নিয়ে উত্তেজনা l

ছাতকে জুনিয়ার হাওর পল্লি লিজ নিয়ে উত্তেজনা l

জুনিয়ার হাওর

ডেস্ক নিউজ: ছাতকে দক্ষিন খুরমা ইউনিয়নের সরু বিল (মুজিবনগর মুক্তিযোদ্ধা পল্লি)’র নামে লিজ নিয়ে জুনিয়ার হাওরের পানি রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে মৎস আহরণ করে ফসলি জমির ক্ষতি সাধন করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ফুসে উঠেছে এলাকবাসী। সোমবার হাওরপাড়ে প্রতিবাদ সভা করেন ক্ষতিগ্রস্ত ১০টি গ্রামের প্রায় ২ শতাধিক কৃষক পরিবারের সদস্যরা। এ নিয়ে এলাকায় বিরাজ করছে চরম উত্তেজনা।

ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক ও স্থানীয় সুত্রে জানা য়ায়, জে এল ৩১৫ স্থিত ধনপুর মৌজার জুনিয়ার হাওরে দশটি গ্রামের মানুষের ব্যক্তি মালিকাধিন প্রায় ৫শত একর কৃষি জমি রয়েছে। একটি বিশেষ মহল লিজের নামে অবৈধ ভাবে পানি রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে দেয়ায় চাষাবাদ ব্যহত হচ্ছে। হাওরের পানি শুকিয়ে মরুভূমির রূপ ধারন করতে শুরু করেছে। এতে ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন হাজারও কৃষক পরিবার।

কৃষকদের অধিকতর ফলন, পানি সেচ ও নিষ্কাশনের সুবিদার্থে ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক এর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় জুনিয়ার হাওরের মুখ থেকে মুজিব নগর মুক্তিযোদ্ধা পল্লির সামন হয়ে ঘানুউরা নদী পর্যন্ত প্রায় ২০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে মাঝারী আকারে খাল খনন করা হয়।
ওই মহল সরু বিল (মুজিবনগর মুক্তিযোদ্ধা পল্লি) লিজ নিয়ে অবৈধ ভাবে জুনিয়ার হাওরে মাছ ধরা, বাঁধ ভাঙ্গা ও জমির সীমানা (আইল) ভেঙ্গে ১০টি গ্রামের কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্থ করে চলেছে।

মুজিবনগর মুক্তিযোদ্ধা পল্লি গড়ে উঠেছে সরু বিলে। এখানে বেশ কিছু মুক্তিযোদ্ধারা বাড়ী ঘর নির্মান করে বসবাস করছেন। ভোক্তভোগী কৃষকরা জানান, সরু বিলের এখন আর কোন অস্থিত্য নেই। শ্রেনী পরিবর্তন করে এ সরু বিলে মুজিবনগর মুক্তিযোদ্ধা পল্লি গড়ে উঠেছে। বেশ কিছু মুক্তিযোদ্ধারা বাড়ী ঘর নির্মান করে বসবাস করে আসছেন। এ বিষয়ে মুরব্বি ইরফান আলী তালুকদার, আহবাব মিয়া তালুকদার সাজু, দোলন মিয়া ও দেবাশীষ দাস জানান, উপজেলার জালালীচর গ্রামের আবদুল হক নামের একজন ও তার সহযোগীরা অবৈধ ভাবে সরু বিল লিজ নিয়ে জুনিয়ার হাওর রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে মাছ ধরা, জমির সীমানা (আইল) ভেঙ্গে ১০টি গ্রামের কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্থ করে চলেছে। তারা আরো বলেন, গেল রোববার বাঁধটি ভেঙ্গে দিলে স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম কিবরিয়া বাদল, মুহবুর রহমান জাহাঙ্গীর, শাহ এমরান আহমদের উপস্থিতিতে বাঁধটি নির্মান কাজ করা হয়। কিন্ত ওই রাতেই আবারো বাঁধটি ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে।

দক্ষিন খুরমা ইউপি সদস্য গোলাম কিবরিয়া বাদল, মুহবুর রহমান জাহাঙ্গীর, শাহ এমরান আহমদ জানান, বাঁধ ভাঙ্গার বিষয়টি অবহিত হওয়ার পর আমরা হাওরে যাই। আমাদের উপস্থিতিতে বাঁধ নির্মান করেন এলাকাবাসী। কিন্ত পরে জেনেছি আবারো বাধঁটি ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। এতে ফসলি জমি মরুভূমিতে পরিনত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মছব্বি বলেন, অবৈধ ভাবে লিজ নিয়ে বাঁধ ভেঙ্গে, মাছ ধরে যে বা যাহারাই কৃষকদের ক্ষতি সাধন করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তিনি দাবি জানান।

উপজেলার জালালীচর গ্রামের আবদুল হক বাঁধ ভাঙ্গার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, এইচএসি নামে জাপানি একটি সংস্থা সারা দেশে প্রায় ৫শত টি হাওর লিজ নিয়েছে। তাদের নিকট থেকে তিনি জুনিয়ার হাওরের ৪টি দাগে- ৪ একর ১৭ শতাংশ জায়গা লিজ নিয়েছেন। এ বিষয়ে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম কবির বলেন, হাওরের লিজ নিয়ে দু’টি প্রজেক্টে কাজ করা হয়েছে। বিষয়টি দেখে বলতে হবে। কৃষি নির্ভর দশটি গ্রামের মানুষের কথা বিবেচনা করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানান এলাকাবাসী।

শেয়ার করুন
  • 30
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





themesba-zoom1715152249
© Daily Jago কর্তৃক সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত।
Developed By: Nagorik IT