মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২১, ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন১২ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

১২ই জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

চীন-মার্কিন দ্বন্দ্ব কি পরিণতি ডেকে আনতে পারে?

চীন-মার্কিন দ্বন্দ্ব কি পরিণতি ডেকে আনতে পারে?

জাগো ডেস্কঃ নবেশ কিছুদিন ধরেই পারমাণবিক শক্তিধর এই দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র আর চীনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। তবে গত এক সপ্তাহের ঘটনায় তাদের সম্পর্ক একেবারে যেন তলানিতে এসে ঠেকেছে।

কিন্তু নতুন এই মার্কিন-চীন দ্বন্দ্বের পেছনে কী উদ্দেশ্য কাজ করছে? এই উত্তেজনা-বৃদ্ধি কী পরিণতি ডেকে আনতে পারে?

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে চীনা কনস্যুলেট বন্ধ করে দেয়ার আদেশের পাল্টা ব্যবস্থা হিসাবে চেংডুর মার্কিন কনস্যুলেট বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে বেইজিং। এর মধ্যেই চেংডু কনস্যুলেট ছাড়তে শুরু করেছেন আমেরিকান কূটনীতিকরা।

হিউস্টনের কনস্যুলেট থেকে চীন বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ ”চুরি” করার তৎপরতা চালাচ্ছিল বলে অভিযোগ আনে মার্কিন প্রশাসন।

‘বিরল এবং নাটকীয়’ পদক্ষেপ

যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে একটি বিদেশী মিশন বন্ধ করে দেয়া নজিরবিহীন কিছু নয়। তবে এ ধরণের পদক্ষেপ সচরাচর ঘটে না, এবং একবার ঘটে গেলে তা থেকে পিছিয়ে আসা কঠিন।

মনে রাখতে হবে চেংডুতে যা বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে তা একটি কনস্যুলেট, দূতাবাস নয়। তাই এখানে পররাষ্ট্র নীতিসংক্রান্ত কাজকর্ম হয় না।

কিন্তু বাণিজ্য এবং বৈদেশিক কর্মকাণ্ডের আওতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এর একটি ভূমিকা আছে।

যেহেতু হিউস্টনে চীনা কনস্যুলেট বন্ধ করে দেবার প্রতিশোধ হিসেবে চেংডুর মার্কিন কনস্যুলেট বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে – তাই এতে যে কূটনৈতিক অবকাঠামোর মাধ্যমে দু দেশের যোগাযোগগুলো হয় – তার একটা ক্ষতি তো হচ্ছেই।

এর আগে পাল্টাপাল্টি ব্যবস্থা হিসেবে দুদেশকে ভিসা বিধিনিষেধ আরোপ, কূটনৈতিক ভ্রমণের নতুন নিয়মকানুন, আর বিদেশী সংবাদদাতাদের বহিষ্কারের মত পদক্ষেপ নিতে দেখা গেছে। এবং সাধারণভাবে বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্রই বেশি আক্রমণাত্মক ভূমিকা নিয়েছে।

গুপ্তচরবৃত্তি সীমা ছাড়িয়ে গেছে

সব দেশেই বিদেশী মিশনগুলো থেকে কিছুটা গুপ্তচরবৃত্তি চালানো হয়ে থাকে – এটা মোটামুটি ধরেই নেয়া হয়।

কিন্তু মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন হিউস্টনে যা হচ্ছিল তা গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিং
ছবির ক্যাপশান, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিং

মার্কিন প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, হিউস্টন কনস্যুলেটটি অর্থনৈতিক গুপ্তচরবৃত্তি এবং প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপন করছিল এবং তাদের মতে সবগুলো চীনা কূটনৈতিক স্থাপনাতেই এটা চলছে।

সে কারণেই এই কর্মকর্তারা বলছেন, তারা চীনকে একটা শক্ত বার্তা দিতে চেয়েছিলেন যে এগুলো আর সহ্য করা হবে না।

এ মাসের প্রথম দিকে এফবিআইয়ের পরিচালক ক্রিস্টোফার রে একটি ভাষণ দিয়েছিলেন – যাতে তিনি বলেন, গত এক দশকে মার্কিন স্বার্থের প্রতি চীনা হুমকি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি আরো বলেন, তাকে এখন গড়ে প্রতি ১০ ঘন্টায় একটি নতুন কাউন্টার ইনটেলিজেন্স তদন্ত শুরু করতে হচ্ছে – যার সাথে চীন সম্পর্কিত।

তবে বেজিং সবসময়ই এসব অভিযোগকে বিদ্বেষমূলক অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

তা ছাড়া সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময় মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এশিয়া বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা ড্যানি রাসেল মনে করেন, এটা হয়তো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রাজনৈতিক সমস্যা থেকে অন্যদিকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে দেবারও একটা চেষ্টা হতে পারে।

তাহলে কি এর সাথে আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের একটা সম্পর্ক আছে?

এর উত্তর ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ দুটোই হতে পারে।

‘হ্যাঁ ’ উত্তরের পক্ষে বলা যায়, মি. ট্রাম্প এখন তার নির্বাচনী প্রচারাভিযানে চীনবিরোধী কথাবার্তা পুরোপুরিভাবে ব্যবহার করছেন।

তার প্রচারকৌশলবিদরা মনে করেন এটা ভোটারদের মনে দাগ কাটবে।

ট্রাম্পের ২০১৬ সালের নির্বাচনী বিজয়ের আগেও চীনের ব্যাপারে কঠোর হবার কথা বলা হয়েছিল।

সূত্রঃ বিবিসি

শেয়ার করুন
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





themesba-zoom1715152249
© Daily Jago কর্তৃক সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত।
Developed By: Nagorik IT