সোমবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২১, ০২:০১ অপরাহ্ন১১ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

১১ই জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

গণসংবর্ধনায় সিক্ত কামরুল হাসান রিপন

গণসংবর্ধনায় সিক্ত কামরুল হাসান রিপন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃরাজনীতিতে স্বচ্ছতা আর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে থাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গুড বুকে জায়গা করে নেন কামরুল হাসান রিপন। আর এর ফলে পুরষ্কৃত হন বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হিসাবে। শনিবার বিকালে যাত্রাবাড়ী সরাই এলাকায় স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে তাকে গণসংবর্না দেওয়া হয়।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামের লড়াকু সৈনিক কামরুল হাসান রিপন আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনগুলোর কাছে একটি জনপ্রিয় নাম। সবার কাছে জনপ্রিয়তার জন্য তিনি ছাত্রলীগসহ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে বার বার সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।
তার রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে জানা যায়, ১/১১ সময় যখন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করে আদালতে নেয়া হয়, তখন সর্বপ্রথম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) থেকে কামরুল হাসান রিপনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের মিছিল বের হয়। সেই মিছিলে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী বাঁধা দিলেও তা উপেক্ষা করে মিছিল চালিয়ে যান রিপনসহ নেতাকর্মীরা। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ নেন তিনি। ঐদিনে পাঁচটি মামলা করা হয় এবং প্রত্যেকটি মামলার প্রধান আসামী করা হয় কামরুল হাসান রিপনকে। অনেক নির্যাতন সহ্য করেও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত পিছপা হয়নি রিপন। এদিকে বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় তার নামে ১৫টি মামলা হয় এবং তিনবার কারাবরণ করেন তিনি।

আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের একাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থক জানান, সংগঠনে রিপনের ব্যাপক সুনাম রয়েছে। কারণ, তিনি কর্মীবান্ধব নেতা। দিনরাত পরিশ্রম করে সংগঠনকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তার অবদান রয়েছে। ক্যাসিনোসহ অন্যায়, অনিয়মকে প্রশ্রয় দেন না তিনি। ছাত্রজীবনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবির বিরোধী আন্দোলনে জোরালো ভূমিকা রাখেন তিনি। রিপনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ কর্মীরা শিবির বিরোধী আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়ে। নেতাকর্মীদের আশা, রিপন ইতিবাচক ভাবধারার মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে আরো এগিয়ে যাবেন।
গনসংবর্ধনার মধ্যমনি কামরুল হাসান রিপন গনসংবর্ধনায় তার বক্তব্যে তাকে সেচ্ছাসেবক লীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এর সভাপতি নির্বাচিত করায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী, সেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন প্রিয় নেত্রীর অর্পিত দায়িত্ব জীবনের সর্বশক্তি দিয়ে পালন করার অঙ্গিকার করেন। এছাড়া তাকে সংবর্ধনা প্রদান করায় তার এলাকার সর্বস্তরের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও দোয়া কামনা করেন। এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও সেচ্ছাসেবী সংগঠন ও এলাকার বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত করেন।
এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী সেচ্ছাসেবক লীগের ঢাকামহানগর দক্ষিণ এর বিপ্লবী সাধারণ সম্পাদক জনাব তারেক সাঈদ। সাধারন সম্পাদক তারেক সাঈদ তার বক্তৃতায় একজন ত্যাগী, সাংগঠনিক ও ক্লিন ইমেজের নেতা কামরুল হাসান রিপনকে নির্বাচিত করায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য ও সর্বাঙ্গিন মঙ্গল কামনা করে সাধারণ মানুষের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন। সেই সাথে আগামীর দিনগুলোতে যাতে স্বচ্ছতার সাথে সকল নেতাকর্মীদের নিয়ে নিজেদের উপর নেত্রী অর্পিত পবিত্র দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারেন তার জন্য ও দোয়া প্রার্থনা করেন।
এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন ডা. কবিরুজ্জামান – সহকারী অধ্যাপক নিউরোলজি হাসপাতাল, আলহাজ্ব মাসুদ হাসান লিটন- চেয়ারম্যান, ব্রাইট স্কুল এন্ড কলেজ। উক্ত অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন করেন – রফিকুল ইসলাম রফিক- সাধারন সম্পাদক কোতোয়ালি থানা সেচ্ছাসেবক লীগ, এমরান সালেহ প্রিন্স- সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা, এম জাকির হোসাইন- সাবেক সহ-সভাপতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ, মোঃ ওবায়দুল ইসলাম – সাবেক সহ-সভাপতি কবি নজরুল সরকারি কলেজ ছাত্রলীগ, মোঃ ওমর ফারুক – সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ, ইলিয়াস হোসেন- কোতোয়ালি থানা সেচ্ছাসেবক লীগ নেতা, সোহেল আহমেদ- মহানগর দক্ষিণ সাবেক সেচ্ছাসেবক লীগ নেতা, নাজমুল হাসান সোহাগ- সাবেক ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা, গোলাম হোসেন রনি- সাধারন সম্পাদক মতিঝিল থানা সেচ্ছাসেবক লীগ, সাইদুল ইসলাম – যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগ নেতা, অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন মোঃ আবু হেসেন খোকন, এস এম আসিফ ইকবাল- সাবেক সহ সম্পাদক ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ। এছাড়া গন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগরের সকল থানা ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, সেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ সহ অন্যান্ন সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জানা যায় কামরুল হাসান রিপন ২০০৬ সালে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনে নির্বাচন করে ৮০০ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন। পরে সিনিয়র সহ-সভাপতি করা হয় (২০০৬-২০১১)। ২০০৩-২০১০ মেয়াদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। এর আগে (১৯৯৮-২০০২) জবির প্রচার সম্পাদক এবং হিসাববিজ্ঞান বিভাগ জবি ছাত্রলীগের আহবায়কের (১৯৯৫-১৯৯৮) দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া দনিয়া কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক ( ১৯৯৪-১৯৯৫) ছিলেন। কামরুল হাসান রিপন ২০১৯ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের এলামনাই এসোসিয়েসনের দায়িত্ব নেন।

শেয়ার করুন
  • 45
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





themesba-zoom1715152249
© Daily Jago কর্তৃক সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত।
Developed By: Nagorik IT