বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন১লা বৈশাখ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

১লা রমজান, ১৪৪২ হিজরি

করোনা আতঙ্কঃ শনিবার তিন আসনে ভোট

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিশ্বব্যাপী মহামারি আকার ধারণ করা করোনাভাইরাসের আতঙ্কের মধ্যেই আগামীকাল শনিবার দেশে তিনটি সংসদীয় আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। শূন্যঘোষিত ঢাকা-১০, গাইবান্ধা-৩ ও বাগেরহাট-৪ আসনে সকাল ৯টা থেকে বিরতিহীনভাবে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ করা হবে।

বছরের শুরুতে চীনে ভয়াবহ রূপ নেয় করোনাভাইরাস। পরে তা বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত হতে থাকে। হাতেগোনা কয়েকটি দেশ বাদে বিশ্বের প্রায় সব দেশই এই ভাইরাসে আক্রান্ত। বিশ্বজুড়ে কয়েক লাখ আক্রান্তের মধ্যে ১০ হাজারের বেশি মারা গেছে। গত ৮ মার্চ বাংলাদেশেও করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত ২০ জন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে, এর মধ্যে মারা গেছেন এক বৃদ্ধ। আরেক বৃদ্ধের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

দেশজুড়ে করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক যখন চরমে তখন ২১ মার্চে নির্ধারিত তারিখে তিনটি আসনে ভোটগ্রহণের ব্যাপারে অনড় থাকে নির্বাচন কমিশন। বিভিন্ন মহলের দাবি সত্ত্বেও ভোট পেছায়নি ইসি। ঢাকা-১০ আসনে ইভিএমে ভোটগ্রহণ করা হবে, আর ইভিএমে করোনাভাইরাসের ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

তবে নির্বাচন কমিশন বলছে, ভোটাররা হাত ধুয়ে ভোট দেবেন এবং পরে ধুয়ে নেবেন। তারা করোনা ঝুঁকিকে তেমন পাত্তা দিচ্ছেন না। এমনকি ২৯ মার্চ চট্টগ্রাম সিটিসহ আরও দুটি আসনে উপনির্বাচনের কথা রয়েছে, সেগুলোও যথাসময়ে সম্পন্ন করার ব্যাপারে এখনো অনড় নির্বাচন কমিশন।

ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে। বাকি দুই সংসদীয় আসনে ব্যালটে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

শুক্রবার (২০ মার্চ) রাজধানীর টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে ঢাকা-১০ আসনের ভোটকেন্দ্র ভিত্তিক মালামাল বিতরণ করা হয়। সেখানে সরেজমিন দেখা যায়, প্রতিটি ভোট কক্ষের জন্য সরবরাহ করা হচ্ছে– ছবিসহ ভোটার তালিকা, স্ট্যাম্প প্যাড, পিতলের সিলমোহর, বল পয়েন্ট কলম, সুচ, মোমবাতি, টিস্যু, অমোচনীয় কালির কলম, গালা, হেসিয়ান ব্যাগ, সাদা কাগজ, ছুরি, সুতা, গামপট, দিয়াশলাই বক্স, স্ক্রু ড্রাইভার, ভ্যাসলিন, ছোট মখমলের কাপড়, করোনা প্রটেকশন টিস্যু ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার। এরমধ্যে ভোটারদের করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষার জন্য রয়েছে, করোনা প্রটেকশন টিস্যু, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও একটি সচেতনতামূলক ব্যানার। আর ভ্যাসলিন ও ছোট মখমলের কাপড় দেওয়া হয়েছে ইভিএম মেশিনে যেসব ভোটারের আঙুলের ছাপ মিলবে না তাদের আঙুলে মখমলের কাপড় দিয়ে মোছানোর ও ভ্যাসলিন দেওয়ার জন্য।

ঢাকা-১০ উপনির্বাচনের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা জিএম সাহাতাব উদ্দিন বলেন, ‘ভোটারদের বলবো, আপনারা ভোট দিতে আসুন। করোনাভাইরাস থেকে ভোটারদের সুরক্ষা দিতে আমাদের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে থাকবে একটি সচেতনতামূলক ব্যানার, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও টিস্যু। ভোট দেওয়ার আগে-পরে স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে পারবেন। এছাড়া প্রতিটি ভোট কক্ষে চার-পাঁচ জন স্বেচ্ছাসেবীও থাকবেন।’

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিটি ভোটকক্ষে প্রায় চারশ’র মতো ভোটার থাকবেন। এসব ভোটারের জন্য ২০০ গ্রামের দুটি স্যানিটাইজার দেওয়া হচ্ছে। কোনও ক্ষেত্রে এর পরিমাণ আরও বেশি বা কমও হতে পারে। সেই অনুযায়ী টিস্যুও দেওয়া হচ্ছে। তবে এমনিতে গত কয়েকটি নির্বাচনে দেখা গেছে মানুষের মধ্যে ভোট নিয়ে তেমন কোনও উৎসাহ নেই। সেখানে এই করোনা ভাইরাসের মধ্যে কত শতাংশ ভোট পড়বে এই নিয়ে সবাই সন্দিহান রয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে এসে চাইলেও ভোট স্থগিত করা যায় না। কারণ, এতে ইসির অনেক অর্থ নষ্ট হতো। তবে ২৯ মার্চের চট্টগ্রামের নির্বাচন স্থগিত করা হতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি থানার নির্বাচনি অফিসার বলেন, ‘সরকারি চাকরি করি। ফলে ইচ্ছা না থাকলেও নির্বাচনি ডিউটি করতে হবে। ভোটকক্ষে তো অনেক লোক আসবে, এটা কীভাবে নিশ্চিত করবো কে সুস্থ আর কে অসুস্থ? শুধু ভোটাররা নয়, আমরা নিজেরাও ভয়ের মধ্যে আছি। একমাত্র ভরসা আল্লাহ।’

ইতিমধ্যে ভোটগ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর।

সচিব বলেন, ‘ঢাকা-১০ আসনসহ তিনটি সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। তবে করোনাভাইরাসের সংক্রমন ঠেকাতে প্রত্যেকটি ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা দিতে সেখানে হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ অন্যান্য সুরক্ষার ব্যবস্থা থাকবে।’

ঢাকা-১০ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা জিএম সাহতাব উদ্দিন জানান, এখানে ছয়জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন-আওয়ামী লীগের মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বিএনপির শেখ রবিউল আলম, জাতীয় পার্টির হাজী মো. শাহজাহান, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের নবাব খাজা আলী হাসান আসকারী, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মিজানুর রহমান চৌধুরী ও পিডিপির আবদুর রহিম।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮, ও ২২ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ঢাকা-১০ আসনে মোট ভোটার তিন লাখ ১২ হাজার ২৮১ জন। এখানে ভোট কেন্দ্র ১১৭টি ও ভোটকক্ষ ৭৭৬টি। এই আসনে নির্বাচনে আইন-শৃংখলা রক্ষায় ২২ মার্চ পর্যন্ত ৬ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এবং ২৩ মার্চ পর্যন্ত ৩ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে পুলিশ, আনসারসহ পর্যাপ্ত আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে।

গাইবান্ধা-৩ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রাহমান জানান, এই আসনের উপনির্বাচনে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন-আওয়ামী লীগ মনোনীত বাংলাদেশ কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি মইনুল হাসান সাদিক, জাতীয় পার্টির প্রার্থী একই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত টিআইএম ফজলে রাব্বী চৌধুরীর ছেলে মইনুল রাব্বী চৌধুরী ও জাসদ সমর্থিত প্রার্থী এস এম খাদেমুল ইসলাম।

সাদুল্যাপুর ও পলাশবাড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনের ভোটার হচ্ছে চার লাখ আট হাজার ৭৪ জন। এখানে ভোট কেন্দ্র ১৩২টি ও ভোটকক্ষ ৭৮৬টি।

বাগেরহাট-৪ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী জানান, এই আসনে দুই জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন-আওয়ামী লীগের মো. আমিরুল আলম মিলন ও জাতীয় পার্টিরর সাজন কুমার মিস্ত্রী। মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনের ভোটার দুই লাখ ৯৭ হাজার ৪৩৪ জন। এখানে ভোট কেন্দ্র ১৪৩টি ও ভোটকক্ষ ৬২৯টি।

২৯ ডিসেম্বর ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিতে তাপস পদত্যাগ করায় তার আসন শূন্য হয়। গত ২৭ ডিসেম্বর গাইবান্ধা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. ইউনুস আলী সরকার মৃত্যুবরণ করায় এই আসনটি শূন্য হয়। ১০ জানুয়ারি বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোজাম্মেল হোসেন মৃত্যুবরণ করায় এই আসনটি শূন্য হয়।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





themesba-zoom1715152249
© Daily Jago কর্তৃক সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত।
Developed By: Nagorik IT