রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২১, ১২:৪৯ অপরাহ্ন২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

২৮শে শাবান, ১৪৪২ হিজরি

ওরা জালিয়াত বটে !

রূপগঞ্জ প্রতিনিধিঃ একজন ইউপি সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্যের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে জালিয়াত ঠিকাদার চক্র তিনটি সড়কের বরাদ্দের টাকা তুলে আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদার চক্রের এমন কর্মে নড়েচড়ে বসেছেন উপজেলা প্রশাসন। রীতিমতো দিনেদুপুরে ডাকাতি করার মতো এমন ঘটনায় উপজেলার ঠিকাদাররাও বিস্মিত হয়েছেন। হঠকারী ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছে গোটা রূপগঞ্জ। জালিয়াতির ঘটনায় দুই ইউপি সদস্য ১২ জুন শুক্রবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক , উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিস ও রূপগঞ্জ থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মনির হোসেন সরকারী বিধি মোতাবেক এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজকর্ম করে আসছেন। সাম্প্রতিককালে আলমপুর এলাকার মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে কথিত ঠিকাদার মোমেন মিয়া ও পিতলগঞ্জ এলাকার ঠিকাদার ওবাইদুল মজিদ জুয়েল ওরফে জুয়েল মাষ্টার মনির হোসেনের কাজ বাগিয়ে নিতে চাপ প্রয়োগ করেন। এতে অস্বীকৃতি জানান মনির হোসেন। একপর্যায়ে জালিয়াত ঠিকাদার চক্র ইউপি সদস্য মনির হোসেন ও সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য জাকিয়া সুলতানার স্বাক্ষর জাল করে বাঘবের ও গোয়ালপাড়া এলাকায় ৩ টি সড়কের নির্মাণ কাজ করেন। কিছুদিন যেতে না যেতেই সড়ক তিনটি ধ্বসে পড়লে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ঐ ইউপি সদস্যদ্বয় উপজেলা দপ্তরে খোঁজ নিয়ে দেখতে পান সব কাগজপত্রে তাদের জাল স্বাক্ষর রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জালিয়াতি ছাড়াও এ ঠিকাদাররা রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদেরকে নানা কৌশলে ফাঁদে ফেলে বার্ষিক উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়ন থেকে কমিশনের টাকা হাতিয়ে নেন। কোন সদস্য প্রতিবাদ জানালে তাকে পত্রিকায় রিপোর্ট ও নানাভাবে হয়রানির হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। জালিয়াত চক্রের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুণীতির অভিযোগ রয়েছে।

ইউপি সদস্য মনির হোসেন ও সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য জাকিয়া সুলতানা বলেন, বাঘবের এলাকার ওই রাস্তাগুলোতে মনির মেম্বার ও আমার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। এ জালিয়াত চক্র পুরো ইউনিয়নের সকল মেম্বারদের জিন্মি করে রেখেছেন। আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। এদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গেলে এরা পত্রিকায় রিপোর্ট ও নানাভাবে হয়রানি করার হুমকি দেয়। এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ঠিকাদার ওবাইদুল মজিদ জুয়েল মাস্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা দাবী করে বলেন, নিয়ম মোতাবেক কাজ পেয়েছি। কোন অনিয়ম করিনি। কাউকে জিন্মি করিনি।

রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন ভুঁইয়া বলেন, অভিযুক্তরা স্বাক্ষর জালিয়াতি করেছেন কিনা আমার জানা নাই। যেহেতু বিষয়টি উর্ধ্বতন মহলে অভিযোগ দেয়া হয়েছে তাদের যা সিদ্ধান্ত হয় তা বাস্তবায়ন করবো। রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগম মম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনা তদন্ত করে প্রমাণ মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন
  • 20
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





themesba-zoom1715152249
© Daily Jago কর্তৃক সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত।
Developed By: Nagorik IT