সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ১০:৫০ অপরাহ্ন২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

২৯শে শাবান, ১৪৪২ হিজরি

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের শঙ্কা

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরাকের বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে, মার্কিন রকেট হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানি কুদস ফোর্সের প্রধান মেজর জেনারেল কাশেম সুলেইমানিসহ অন্তত ৮ জন। পেন্টাগন বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই সুলেইমানিকে হত্যা করা হয়েছে। প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

ইরানি মিলিশিয়াদের ঘাঁটিতে বিমান হামলার জেরে মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) বাগদাদের মার্কিন দূতাবাসে আক্রমণ করে ইরানপন্থীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শেষমেষ সাড়ে ৭০০ সেনা ডেকে পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র।

এর দু্ই দিনেনের মাথায় বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) রাতে বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে ইরানি কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাশেম সুলেইমানির গাড়িবহরে রকেট ছোড়ে মার্কিন বাহিনী। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান সুলেইমানি শিয়া পিএমএফ নেতা আবু মাহদি আল মোহানদিসহ ৮ জন।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর বলছে, ইরাকে মার্কিন দূতাবাসের কর্মী ও কূটনীতিকদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি।

ইরানের আঞ্চলিক শক্তি বৃদ্ধির কারিগর জেনারেল সুলাইমানি, দীর্ঘদিন ধরেই ছিলেন সিআইএ এবং মোশাদের হিটলিস্টে। ১৯৯৮ সাল থেকে ইরানের কুদস ফোর্সের নেতৃত্বে। দুই দশকে এ বাহিনীর কর্মতৎপরতা ছড়িয়ে পড়ে ইরানের বাইরে। সিরিয়া আসাদ বাহিনীকে সমর্থন এবং আইএস বিরোধী লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে এ বাহিনীর।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের স্নায়ুযুদ্ধ নিয়ে ক্ষুদ্ধ ইরাকিরা। তাদের বক্তব্য, আমেরিকা এবং ইরানের উচিত ইরাকের বাইরে নিয়ে তাদের সমস্যা সমাধান করা। ইরাকের ভেতরে বসে এসব তৎপরতা চলতে দেয়া হবে না।

টুইটে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ জানান, সুলাইমানিকে কাণ্ডজ্ঞানহীন হামলার মাধ্যমে হত্যার পরিণতির দায় যুক্তরাষ্ট্রকে নিতে হবে।

চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি। বলেন, যেসব অপরাধী তাদের নোংরা হাত দিয়ে জেনারেল সুলাইমানির রক্ত ঝরিয়েছে তাদের জন্য কঠোর প্রতিশোধ অপেক্ষা করছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুলেইমানির হত্যা ইস্যুতে বড় ধরনের সংঘাতে জড়াতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।

ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেটসের সিনিয়র ফেলো বেহনাম বেন তালেবলু বলেন, পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালী, ড্রোন হামলা নিয়ে গেলো সাড়ে ৬ মাস ধরেই মুখোমুখি অবস্থানে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র। এই প্রথমবার অনেকটা যুদ্ধাবস্থায় উপনীত হয়েছে দেশ দুটি।

সুলাইমানির শিয়া প্রভাব যুক্ত লেবানিজ হিযবুল্লাহ, ফিলিস্তিনের হামাস ও ইসলামিক জিহাদ ছাড়াও পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ইয়েমেনের হুথিরা।

পাকিস্তানি আকাশ ব্যবহারে মার্কিন সতর্কতা

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের কমান্ডার জেনারেল কাসেমিকে হত্যার ঘটনায় একের পর এক সতর্কতা জারি করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন নাগরিক দ্রুত ইরাক ত্যাগের পর এবার পাকিস্তানি আকাশ ব্যবহারে সতর্ক করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের বিপ্লবী গার্ডস বাহিনীর এলিট কুদস ফোর্সের কমান্ডার মেজর জেনারেল কাসেম সোলাইমানিসহ পাঁচজন নিহত হন।

এরপরই মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত ইরাক ত্যাগের নির্দেশ দেয় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস। কিছুক্ষণের মধ্যে ওয়াশিংটন থেকে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার নিয়ে নোটিশ জারি করা হয়।

নোটিসে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সম্ভব হলে পাকিস্তানি আকাশ সীমা ব্যবহার বন্ধ রাখতে হবে। সেটি সম্ভব না হলে পাক আকাশসীমায় প্রবেশ থেকে বের হওয়া পর্যন্ত এবং অবতরণ ও উড্ডয়ন সব ক্ষেত্রেই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

সোলাইমানি হত্যার প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তানে ইরান প্রভাবিত মিলিশিয়া বাহিনী মার্কিন বিমানকে টার্গেট করে হামলা চালাতে পারে, এমন আশঙ্কায় এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই নির্দেশনা যাত্রীবাহী, মালবাহী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় সম্পর্কিত; যে কোনও বিমানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সব ধরণের বিমান বা আকাশ যানকে এ নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে।

সোলাইমানিকে হত্যার কারণ জানালো যুক্তরাষ্ট্

হত্যাকাণ্ডের পর পেন্টাগন বলছে, ইরাক ও পুরো অঞ্চলে মার্কিন সেনা ও কূটনীতিকদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করে আসছিলেন সোলাইমানি।

শিয়াদের কয়েকটি সশস্ত্র ইউনিট মিলে দ্য হাশেদ নেটওয়ার্ক গঠিত হয়েছে। তাদের অধিকাংশই তেহরানের ঘনিষ্ঠ। তাদের অবশ্য ইরাকি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে একীভূত করে ফেলা হয়েছে।

আল-কুদসের প্রধান সোলাইমানি ইরাকে প্রতিবেশী ইরানের মূলপ্রতিনিধির কাজ করে আসছিলেন। সরকারবিরোধী বিক্ষোভসহ বিভিন্ন সময়ে তিনি ইরাক সফরে গিয়েছেন।

মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানায়, কাসেম সোলাইমানির হত্যার হাত থেকে বিদেশে মার্কিন নাগরিকদের রক্ষায় চূড়ান্ত প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে তারা।

মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) বাদগাদে মার্কিন দূতাবাসে হামলা ও ভাঙচুর চালায় হাশেদ গোষ্ঠী। এর আগে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে কাতায়েব হিযবুল্লাহর ২৫ সেনাকে হত্যা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

এছাড়া ইরাকে মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে কয়েক দফা রকেট হামলার ঘটনায় ইরানকে দোষী করে আসছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তখন তিনি বলেছেন, তাদের অবশ্যই বড় খেসারত দিতে হবে। এটা কোনও হুঁশিয়ারি না, হুমকি।

মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মার্ক এসপার বলেছেন, ইরান ও দেশটির সমর্থিত বাহিনী আরও হামলা চালাতে পারে বলে তাদের কাছে আভাস রয়েছে। কাজেই নাগরিকদের রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র আরও নিবৃত্তিমূলক হামলা চালাতে পারে।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





themesba-zoom1715152249
© Daily Jago কর্তৃক সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত।
Developed By: Nagorik IT