সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ০৯:৩৭ অপরাহ্ন২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

২৯শে শাবান, ১৪৪২ হিজরি

আ’লীগের সম্মেলনঃ ভাবনায় অনেকে !

আ’লীগের সম্মেলনঃ ভাবনায় অনেকে !

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আওয়ামী লীগের ২১তম কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে ২০ ডিসেম্বর। এরইমধ্যে কাঁপুনি শুরু হয়েছে অনেক কেন্দ্রীয় নেতার মাঝে। কাউন্সিল উপলক্ষে দাপ্তরিক সবকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রচার ও প্রকাশনার কাজও শেষ। এখন অপেক্ষা, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে কে আসছেন আর বাদ যাচ্ছেন কে? কাউন্সিলের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে বাদ পড়ার উদ্বেগ ততই বাড়ছে কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে। কারা পদ পাচ্ছেন আর কারা বাদ পড়ছেন এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা।

তবে কাউন্সিলে ব্যাপক পরিবর্তনের কথা শোনা গেলেও দলটির হাইকমান্ড সূত্র বলছে, ব্যাপকভাবে বাদ দেয়ার মত ঘটনা ঘটবে না। দলের একাধিক নীতিনির্ধারক মনে করেন অভিজ্ঞ নেতাদের বাদ দিয়ে সংগঠনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে না। নতুন পুরাতনের সমন্বয়েই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ গঠিত হবে। তারা মনে করেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা তরুণদের হাতেই দলের দায়িত্ব ছেড়ে দিতে চান। তাই তরুণদেরকে কমিটিতে জায়গা করে দিতে চান। তবে সমন্বয় করেই তিনি কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করবেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও প্রেসিডিয়াম সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা দুজনই প্রত্যাশা করছেন দলের পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক পদে আসীন হওয়ার। তারা মনে করেন, দল ও সরকার পৃথকভাবে চলার কথা বলা হলেও তাদের কোন দ্বিমত নেই। তবে সরকারের মন্ত্রীসভায় যারা আছেন তারা দল ও সরকারের মন্ত্রীসভায় সমানভাবে দক্ষতার সাথেই দায়িত্ব পালন করছেন। এতে তাদের কোন সমস্যা হচ্ছে না।

দলের বিভিন্ন নেতাকর্মীর সাথে আলাপ করে জানা গেছে অধিকাংশ নেতাকর্মী মনে করেন, দলের জন্য সার্বক্ষণিক একজন সাধারণ সম্পাদক প্রয়োজন। যিনি সার্বক্ষণিক দলের জন্য কাজ করবেন, নেতাকর্মীদের সময় দিবেন। দেশব্যাপী সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড বছরব্যাপী-ই চালাবেন। এমনটা ভাবছেন দলের হাইকমান্ডও।

দলের সাধারণ সম্পাদক থাকা না থাকা নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নেত্রী দায়িত্ব দিলে আছি, না দিলে নাই। তবে দায়িত্ব চালিয়ে নেয়ার মতো অবস্থা আমার আছে, আমি সুস্থ। সমস্যা হচ্ছে না। তবে দলের সাধারণ সম্পাদক পদে ওবায়দুল কাদেরের থাকা না থাকা নিয়ে তিনি নিজেও শতভাগ নিশ্চিত নন। তিনি বলেছেন, সাধারণ সম্পাদক না হলেও আগে যে পদে ছিলাম সেখানে তো যেতে পারবো? অর্থাৎ দলের প্রেসিডিয়াম পদ।

এদিকে দলের ২১তম সম্মেলন নিয়ে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সরকারের নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সম্মেলন কোনো ব্যক্তির বিষয় নয়। এটি একটি আদর্শ, চেতনা। একটি দলকে নতুনভাবে সঞ্চারিত ও গতিশীল করতে গিয়ে কাউন্সিলররা যে সিদ্ধান্ত দেবেন সেটাই সিদ্ধান্ত। এখানে কেউ বাদ পড়বেন না। আওয়ামী লীগ একটি পরিবার। একেকজন একেক জায়গায় দায়িত্বে থাকবেন। এটাই সম্মেলনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের একমাত্র গণতান্ত্রিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এখানে কাউন্সিলরদের সিদ্ধান্তের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত হয় না। এর চেয়ে গণতান্ত্রিকভাবে অন্য কোনো দলের নেতা নির্বাচন হয় কিনা আমার জানা নেই।

দলীয় সূত্র জানায়, একমাত্র সভাপতির পদটিই পুর্ননির্বাচিত করতে কাউন্সিলরা প্রস্তুত। বাকি ৮০টি পদের মধ্যেই যোগ-বিয়োগের মধ্যে থাকবে। পরিবর্তন আসতে পারে প্রেসিডিয়াম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক পদগুলোতে। পদ ধরে রাখতে কিংবা কমিটিতে থাকতে বর্তমান কমিটির প্রায় সকলেই নানাভাবে চেষ্টা-তদবীর চালাচ্ছেন। তবে অন্ধকারেই আছেন সবাই। অনেকের ধারণা চৌকশ ও সাংগঠনিক দক্ষতা যাদের রয়েছে তারা কেউ বাদ পড়বেন না। দলের হাইকমান্ড তাদের বাদ দেবে না। তবে সবকিছুই জানা যাবে আর মাত্র দুদিন পর।

 

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





themesba-zoom1715152249
© Daily Jago কর্তৃক সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত।
Developed By: Nagorik IT