সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ০৭:২০ অপরাহ্ন২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

২৯শে শাবান, ১৪৪২ হিজরি

অনলাইনের জন্য ৩৫৯৭ আবেদন : সংসদে তথ্যমন্ত্রী

অনলাইনের জন্য ৩৫৯৭ আবেদন : সংসদে তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বর্তমান সরকারের সময়ে সংবাদপত্র, ইলেকট্রনিক মিডিয়া অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করছে দাবি করে তথ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ হাছান মাহমুদ বলেছেন, জাতীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। সম্প্রচার ও গণমাধ্যম সংক্রান্ত নীতিমালা এরইমধ্যে প্রণীত হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী কার্যক্রম বাস্তবায়নের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। অনলাইন গণমাধ্যম রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন জমা দান ২০০৫ সালের ডিসেম্বর মাস হতে শুরু হয়েছে। এই পর্যন্ত ৩ হাজার ৫৯৭টি রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন পড়েছে। আবেদনপত্র সমূহ যাচাই-বাছাই করে তালিকাসহ তথ্য মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (২০ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদে কিশোরগঞ্জ-৫ এর মোহাম্মদ আফজাল হোসেনের তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদে জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্র চালু করে তথ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় নেয়া হয়েছে। সরকার জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা, তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন ও তথ্য কমিশন প্রতিষ্ঠাসহ অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। গণমাধ্যম সরকারের সম্প্রচার নীতিমালার কারণে বর্তমানে বেসরকারি খতে ৪৪টি টেলিভিশন, ২২টি এফএম রেডিও এবং ৩৩টি কমিউনিটি রেডিও চ্যানেলের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, জনগণের তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রণীত তথ্য অধিকার আইন বলবৎ রয়েছে এবং জনগণ এর সুফল ভোগ করছেন। সংবাদপত্র ও সাংবাদিকবান্ধব বর্তমান সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে কোনো রকম হস্তক্ষেপ করছে না এবং এই সেক্টরের মান উন্নয়নের লক্ষ্যে নানামুখী কার্যক্রম গ্রহণ অব্যাহত রেখেছে। বিশেষভাবে সংবাদপত্রের সাংবাদিকদের মান উন্নয়নের জন্য পিআইবি গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে সারা বছরব্যাপী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল এর উদ্যোগে গত বছরের ১৭টি জেলায় প্রায় ১৫ শত জন সংবাদকর্মীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এছাড়া সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষা ও সাংবাদিকতার মানোন্নয়নে বিগত ছয় বছরে দেশের উপজেলায়, স্থানীয় জেলা, প্রশাসনের সমন্বয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সঙ্গে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল এর ২৫টি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার উন্নয়নের জন্য আলাদাভাবে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এ ছাড়াও নবম ওয়েজ বোর্ডের ঘোষণা করা হয়েছে। গণমাধ্যমকর্মী আইন চূড়ান্তকরণের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

রংপুর-১ আসনের মশিউর রহমান রাঙ্গার প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আকাশ-সংস্কৃতির বর্তমান যুগে বিদেশি সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের অবারিত সুযোগ রয়েছে। অপসংস্কৃতির আগ্রাসনরোধে রাষ্ট্রীয় তিনটি টিভি চ্যানেলসহ বেসরকারি প্রায় ৩০টির বেশি চ্যানেলে বাঙালি সংস্কৃতির নানা অনুষ্ঠান প্রচার করা হচ্ছে্। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ বাংলার কৃষ্টি, সংস্কৃতি, আবহমান বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্য ও দেশীয় মূল্যবোধকে উপজীব্য করে নাটক, সঙ্গীতানুষ্ঠান, প্রামাণ্যচিত্র ইত্যাদি সম্প্রচারিত হচ্ছে্। দেশের তরুণ সমাজকে দেশীয় সংস্কৃতিতে উদ্বুদ্ধ করবার জন্য তরুণদের উদ্দেশ্যে নানাবিধ অনুষ্ঠান নির্মাণ ও প্রচার করা হচ্ছে। তা ছাড়া জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা অনুযায়ী বিদেশি অপসংস্কৃতির আগ্রাসন রোধকল্পে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে বিটিভি সমগ্র ভারতে দেখা যাচ্ছে। দেশে বেসরকারি টেলিভিশনের বিদেশি সিরিয়াল প্রদর্শনের ক্ষেত্রে অনুমতি নেয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।

 

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





themesba-zoom1715152249
© Daily Jago কর্তৃক সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত।
Developed By: Nagorik IT